জাইমা রহমান এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পেক্ষাপটে জাইমা রহমান (Zaima Rahman) এক নতুন অধ্যায় ও আগামীর সম্ভবনা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে এই পরিবারটি কয়েক দশক ধরে দেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পেক্ষাপটে সবচাইতে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের একমাত্র উত্তরসূরি —ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাস জীবনের পর সম্প্রতি তিনি তার বাবার সাথে দেশে ফিরেছেন। তবে জাইমা রহমানকে ঘিরে দেশের সাধারন মানুষের মনে তৈরি হয়েছে নানা জলপনা কল্পনা।
তবে সকল প্রশ্নের উত্তর যানতে আমরা আপনাদের জন্য সাজিয়েছি আজকের এই ব্লগ পোষ্ট। আজকের এই ব্লগে আমরা জানবো কে এই জাইমা রহমান (Zaima Rahman), তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কি এবং কেন তাকে নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিক মঞ্চে এত আলোচনা।
জাইমা রহমান এর পারিবারিক পরিচয় ও বেড়ে ওঠা:
জাইমা জারনাজ রহমান, যিনি জাইমা রহমান (Zaima Rahman) নামেই অধিক পরিচিত, তিনি বাংলাদেশ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। জন্মসূত্রে তিনি বাংলাদেশের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য। ছোটবেলা থেকেই তিনি রাজনীতির উত্তপ্ত পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০০৮ সালে বাবা-মায়ের সাথে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। সেখানেই তার কৈশোর ও তারুণ্যের দিনগুলো অতিবাহিত হয়।
জাইমা রহমান এর শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:
রাজনীতিবিদের সন্তান হিসেবে তিনি চাইলেই খুব সহজে দলের পদ-পদবিতে আসতে পারতেন। কিন্তু জাইমা রহমান (Zaima Rahman) সেই পথে হাঁটেননি। তিনি নিজেকে আগে শিক্ষায় এবং যোগ্যতায় প্রস্তুত করেছেন। লন্ডনের বিখ্যাত ‘কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি’ থেকে তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১৯ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ‘লিংকনস ইন’ থেকে বার-এট-ল সম্পন্ন করে ব্যারিস্টার হিসেবে সনদপ্রাপ্ত হন।
তার এই শিক্ষাগত অর্জন প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল পারিবারিক পরিচয়ে নয়, বরং নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়েই নিজের অবস্থান তৈরি করতে চান। কর্মজীবনে তিনি বর্তমানে আইনি পেশার সাথে যুক্ত আছেন এবং লন্ডনে থাকাকালীন বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সাথেও কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
রাজনীতিতে জাইমা রহমানের সম্ভাবনা:
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে জাইমা রহমানকে নিয়ে এক ধরনের আবেগ কাজ করে। তাকে অনেকেই আধুনিক, শিক্ষিত এবং আন্তর্জাতিক মানের একজন নেতৃত্ব হিসেবে কল্পনা করেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা লক্ষণীয়।
- ১. আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি: পশ্চিমা বিশ্বে পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠার কারণে জাইমা রহমানের মধ্যে আধুনিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে তার এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।
- ২. পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি: জাইমা রহমানের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ বা নেতিবাচক কোনো রেকর্ড নেই। রাজনীতিতে এই ‘ক্লিন ইমেজ’ তাকে অন্যদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে।
- ৩. আন্তর্জাতিক লবিং: প্রবাসে থাকাকালীন তিনি বেশ কয়েকবার তার বাবার প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে উপস্থিত ছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি কূটনৈতিক মহলেও নিজের পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
জাইমা রহমানের থেকে সাধারন জনগনের ও বিএনপির প্রত্যাশা:
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের পরিবারের দেশে ফেরা বিএনপির রাজনীতির জন্য একটি বড় ঘটনা। জাইমা রহমানের উপস্থিতি দলের তরুণ কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি সরাসরি দলের হাল না ধরলেও, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এবং দলের সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষা, ক্ষমতায়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
জাইমা রহমানের জন্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ:
অবশ্যই বাংলাদেশের জটিল রাজনীতির মাঠে টিকে থাকা সহজ নয়। জাইমা রহমানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের তৃণমূল রাজনীতির ভাষা বোঝা এবং সাধারণ মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করা। লন্ডনের জীবন আর বাংলাদেশের গ্রাম-বাংলার রাজনীতির মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা তাকে দ্রুত রপ্ত করতে হবে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাইমা রহমানের ধীরস্থির স্বভাব, আইনি প্রজ্ঞা এবং পারিবারিক ঐতিহ্য তাকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়তা করবে। তিনি যদি সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন, তবে তা কেবল বিএনপির জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
উপসংহার:
ব্যারিস্টার জাইমা রহমান (Zaima Rahman) এখনো সক্রিয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মঞ্চ কাঁপাচ্ছেন না হয়তো, কিন্তু তার উপস্থিতিই রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। তিনি কি শুধুই তারেক রহমানের কন্যা হিসেবে থাকবেন, নাকি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন—তা সময় বলে দেবে। তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়, জাইমা রহমান বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে উদীয়মান এক ধ্রুবতারা, যার দিকে তাকিয়ে আছে কোটি মানুষ।
আপনার মতামত: Click HERE
আপনি কি মনে করেন জাইমা রহমান (Zaima Rahman) বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবেন? কমেন্ট করে আমাদের জানান। প্রতিদিন এরকম গুরুত্ব পূর্ণ পোষ্ট পেতে আমাদের ওয়েব সাইটি ভিজিট করুন- job-circular.com








